ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের নৃশংসতা: চালককে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যায় ভাসানো, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-০৭ ০১:১৮:০১
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের নৃশংসতা: চালককে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যায় ভাসানো, গ্রেপ্তার ৩ অটোরিকশা ছিনতাইয়ের নৃশংসতা: চালককে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যায় ভাসানো, গ্রেপ্তার ৩
 
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
 
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
 
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আল-আমিন (২৬) রাজধানীর তুরাগ থানার তালটেক গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ফেটালিয়া গ্রামের গাফফার মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়াকে (২২)  কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাজধানীর তুরাগ থানার বাদলদি পাকুরিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের (৩৮) কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার রাথুরা গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ছেলে অটোরিকশা চালক অমৃত চন্দ্র সরকার আশিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
 
এর পাঁচদিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কালীগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর আমির আলীর ঘাট সংলগ্ন স্থানে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটির গলায় বেল্ট পেঁচানো ছিল এবং পেট ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ছিল। পরে পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে নিহত ব্যক্তিকে নিখোঁজ অটোরিকশা চালক আশিক হিসেবে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।
এ ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি নিহত আশিকের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
 
তদন্তে উঠে আসে, মূল অভিযুক্ত সেলিম মিয়া অটোরিকশাটি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে আশিককে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলে। পরে নিজের পরা বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
 
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর সেলিম মিয়া ও আল-আমিন ছিনতাই করা অটোরিকশাটি সাইফুল ইসলামের কাছে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
 
গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে হাজির হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ